পরিচিতি

নামকরণ

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সা. আল্লাহ তাআলার প্রথম ঐশি বাণী ‘পড় তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমাকে সৃজন করেছেন’ -আল-কুরআন। প্রাপ্ত হবার পর সর্ব প্রথম অহির এ সংবাদ তাঁর সহধর্মিনী উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাযি. কেই বললেন ‘ অতঃপর খাদিজা রাযি. কে অহির সংবাদ অবিহিত করলেন-আল-হাদিস। তিনি সে মহিয়ষী নারী যিনি নারী জগতের সর্ব প্রথম ইসলামে দিক্ষিতা, ইলমে অহির প্রথম সবক প্রাপ্তা ও উম্মাহাতুল মুমিনীন রা. মধ্যে অন্যতমা।
আল্লাহর পক্ষ দাওয়াত পৌঁছাবার প্রথম নির্দেশ ‘এবং আপনার নিকটাত্বীয়দেরকে সাবধান করুন’ -আল-কুরআন। আপনজনদের মধ্যে নারী-পুরুষ সবাই শামিল। তাছাড়া রাসুল সা. এর প্রতি সে যুগের মহিয়ষী নারীদের আবদার ‘আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে তালিমের জন্য একটি দিন ধার্য করুন’ অতঃপর তাদেরকে নসিহত করলেন ও আদেশ দিলেন’ -আল হাদিস। এ হাদিসটিও নারীদের ধর্মীয় শিক্ষার আগ্রহ ও তাদের তালীমের যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে। তারই প্রেক্ষাপটে উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রাযি. মুকসিরীনে হাদিস বা অধিক হাদিস বর্ননাকারীদের অন্যতমা, যারই ঘরে নবী সা. ওফাত প্রাপ্ত হন। এ ছাড়াও বহু মহিয়ষী নারী যারা দরবারে রিসালাতে নবী করীম সা. এর কাছ থেকে সরাসরি দিক্ষা নিয়ে নারীদের মাঝে ইসলামি দাওয়াত পৌছে দিয়েছেন। মায়ের কোলই শিশুর প্রথম শিক্ষালয়। দ্বীনদার তথা আদর্শ জাতি পেতে হলে আদর্শ নারীর কোন বিকল্প নেই। তাই যুগে যুগে ইসলামি শিক্ষায় নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সময়ের চাহিদায় এর ধরণ ভিন্ন থাকলেও প্রকৃতি ছিল একই। তাই আদর্শ দ্বীনি জাতি গঠনের লক্ষে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রয়াস উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদরাসা। কিন্তু পথ চলতে হবে সাবধানে, পূর্ন ইখলাসের সিঁড়ি ধরে তাতেই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছা সম্ভব হবে। আল্লাহ আমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিন। আমীন॥

পরিচিতি

উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদরাসাটি একটি খালেস দ্বীনি নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৯৪ সালে মাতৃজাতির মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে ‘তাহিরাতুননিসা ইসলামিয়া আরাবিয়া মহিলা মাদরাসা’ নামে অত্র মাদরাসাটি যাত্রা শুরু করে। সেই থেকে অদ্যাবধি নারী সমাজের মাঝে দ্বীনি ইলমের অমলিন শুভ্র আলো বিচ্ছুরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষাগত মানের দিক থেকে মাদরাসাটি দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কিরাম ও দ্বীনদার মহলে ব্যাপক পরিচিতি এবং সুখ্যাতি অর্জন করে। যার ধারা আজও অব্যাহত থেকে ক্রমান্বয়ে সাফল্যের স্বর্ণশিখরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিগত বছরগুলোয় অত্র মাদরাসার ছাত্রীগণ বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতায় কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সম্মেলিত মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অধিকার করতঃ ঈর্ষণীয় সাফল্য লাভ করেছে। আল্লাহর অশেষ রহমতে অত্র মাদরাসাটি আজ বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ আদর্শ মহিলা মাদরাসারূপে সুধী মহলে পরিগণিত হচ্ছে।
বর্তমানে মাদরাসার কার্যক্রমকে আরো উন্নত ও গণমুখী করার লক্ষ্যে আমরা ঢাকার বিভিন্ন আলেম-ওলামাদের পরামর্শ ও হিতোপদেশের ভিত্তিতে মাদরাসা পরিচালনার ক্ষেত্রে নীতিগত কিছু পরিবর্তন এনেছি। তারই ফলশ্রুতিতে এখন হতে অত্র মাদরাসা ব্যক্তি-বিশেষের নামের পরিবর্তে সমগ্র মুসলিম মিল্লাতের জননী, রাসূল সা.-এর পবিত্র সহধর্মিনীগণ তথা ‘উম্মাহাতুল মুমিনীন রাযি.’-এর নামানুসারে মাদরাসার নাম ‘উম্মাহাতুল মুমিনীন মহিলা মাদরাসা’ করা হয়েছে এবং এর আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতর জন্য ‘উম্মাহাতুল মুমিনীন ট্রাস্ট’ নামক একটি সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অত্র এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা ও ছাত্রী অভিভাবকগণের উপস্থিতিতে এক সাধারণ সভার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তাবলী গৃহীত হয় এবং এ নামেই সকল ক্ষেত্রে সকল কার্যক্রম পরিচালিত। বর্তমানে কোকাকোল ঢালীবড়ি সংলগ্ন মাদরাসার নিজেস্ব জায়গায় ইমারত নির্মাণ শুরু হয়েছে। সকলের সাহায্য ও দোয়া কাম্য।

বৈশিষ্ট্যসমূহ

• নিজস্ব ভবনে, নতুন আঙ্গিকে নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ।
• সাধারণ শিক্ষা ও দ্বীনি শিক্ষার সমন্বয়ে দেশি-বিদেশি গ্রন্থ নির্বাচনের মাধ্যমে অতি উন্নত সিলেবাস।
• শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রচুর অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্তৃক পাঠ দান।
• নারী সমাজের মধ্যে দ্বীনি দাওয়াত ও তাবলীগের প্রচার-প্রসারের লক্ষ্যে ছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে যুগোপযোগী মুবাল্লিগা হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর প্রয়াস।
• শরয়ী পর্দার যথাযথ বাস্তবায়ন।
• শিক্ষিকাদের মাতৃ¯েœহে সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে তালীম ও আমলের এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ।
• পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, সফল ও স্বর্ণোজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে আবেগময় প্রত্যাশা বাস্তবায়নের অনুপম অনুশীলন।
• শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের আওতায় কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা।
• ছাত্রীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার প্রতিযোগিতা, বক্তৃতা, বিতর্ক, সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লেখনী অনুশীলনের ব্যবস্থা।
• ভবিষ্যৎ শিক্ষিকারূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষাদান পদ্ধতির অনুশীলন ও তাকরার।
• সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থাপনার জন্য নিজস্ব জেনারেটর।
• রুটিন মাফিক পড়াশোনা, বিশ্রাম ও আমলের তালীম।
• ফযিলত ও তাকমিল শ্রেণির জন্য মাদরাসার পক্ষ হতে ফেরতযোগ্য কিতাব প্রদানের ব্যবস্থা।
• লেখাপড়া ও দ্বীনি কাজে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে পুরস্কার প্রদান।
• রুচি ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পরিবেশন।
• পরহেজগার বাবুর্চি ও আয়া।
• সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার জন্য মহিলা দারোয়ান ও নৈশপ্রহরী।
• মান সম্মত পণ্যের জন্য নিজস্ব দোকান।
• ছাত্রীদের সহযোগিতার জন্য ২ জন আয়া ও ২ জন খাদেম।
• লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংসারিক কর্মকান্ডে পারদর্শীরূপে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
• অভিভাবকদের খরচে প্রাথমিক ও জরুরী চিকিৎসার ব্যবস্থা।
• পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, আন্তরিকতা, অভিজ্ঞতা, মানবিকতা, নৈতিকতা, শালীনতা, স্বতন্ত্রতা, মমতা, উৎকর্ষতা, স্বকীয়তা, স্বাধীনতা, বিশ্বস্ততা, তাহজিব, তামাদ্দুন, পর্দা, শৃঙ্খলা, পরিবেশ, রুচি, সাফল্য, কৃতিত্ব, গৌরব, এবং শিক্ষার আধুনিকতায় আমরা অনন্য।

• সর্বোপরি, আদর্শ জাতি গঠনে চাই আদর্শ মা, আর এই আদর্শ মা গড়ে তোলার মূল লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের সার্বিক প্রয়াস পরিচালিত।

নতুন আপডেট

পেতে সাইন আপ করুন